বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সমাবেশ, ২০১৯-এর পঞ্চম ফোন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় গত দশ (১০)
ফেব্রুয়ারী (February) , ২০১৯ রোববার, নিউইয়র্ক সময় বিকেল পাঁচটায়। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনায় অংশ নেন ডেনভার থেকে জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ও পূরবী বসু, আটলাণ্টা থেকে হারুন রশিদ, আশফাক স্বপন ও হৃদয়, ভার্জিনিয়া থেকে আনোয়ার ইকবাল, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ধনঞ্জয় সাহা, মন্ট্রিয়ল থেকে রাকীব হাসান, টোরান্টো থেকে সাদ কামালী এবং উত্তর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মোহাম্মদ ইরফান। আলোচনার সার ও সিদ্ধান্তগুলো নীচে তুলে ধরা হল।

তহবিল সংগ্রহঃ
তহবিল সংগ্রহে গত সভা থেকে এই সভার মাঝের সময়ে কোনরকম অগ্রগতি হয়েছে কিনা জানা যায়নি। তহবিল/বিজ্ঞাপন সংগ্রহে নিজ নিজ শহরের, বিশেষ করে স্বাগতিক শহরের, সাহিত্যানুরাগী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, পেশাজীবিদের সাথে যোগাযোগ করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান আরো একবার, সমাবেশের আহ্বায়ক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত। স্বাগতিক কমিটি জানান, সংগঠনের বাইরের একজন ব্যক্তি ইতঃপূর্বে কমিশনের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে দিয়েছিল আটলাণ্টা থেকে প্রকাশিত ফোবানা স্মরণিকার জন্য। একইভাবে সাহিত্য সমাবেশের স্মরণিকার জন্য বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করা যেতে পারে বলে সভায় উপস্থিত সবাই একমত হন। তবে এই কাজের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা এবং কমিশনের হার জানার জন্য হারুন রশিদ বিজ্ঞাপন সংগ্রাহকের সাথে কথা বলবেন বলে জানান। এই কাজের জন্য একটি মিডিয়া কিট তৈরীর দায়িত্ব নেন আশফাক স্বপন। মিডিয়া কিট তৈরীতে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আশফাক স্বপনকে সহায়তা করবেন পূরবী বসু। পূরবী বসু আবারো জানান তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সুহৃদদের কাছে এবং নিজস্ব অর্থে পাঁচ হাজার ডলার তুলতে পারবেন।
তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ইতঃপূর্বে প্রস্তুত করা পঁচিশ হাজার ডলারের আনুমানিক বাজেটটির চেয়ে কিছুটা বেশী হওয়া উচিৎ বলে হারুন রশিদ জানান।

অনুষ্ঠানসূচীঃ
সমাবেশের অনুষ্ঠানসূচীতে সাহিত্য ও সাহিত্য বিষয়ক বিষয়বস্তুতেই প্রাধান্য দেয়া হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে সন্ধ্যার পর, সাহিত্য সমাবেশের দিনের কর্মসূচী শেষ হয়ে গেলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বাগতিক শহরের শিল্পীদের যে অনুষ্ঠানটি হবে সেব্যাপারে স্বাগতিক পরিষদ অনুষ্ঠান পরিকল্পনা পরিষদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবেন। সমাবেশে অংশ নেয়া বা সমাবেশে আগতদের আমন্ত্রিত শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সমন্বিত করার ব্যাপারে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা পরিষদ স্বাগতিক পরিষদের সাথে আলাপ আলোচনা করে নেবেন।

ওয়েবসাইটঃ
আনোয়ার ইকবাল জানান ওয়েবসাইটের জন্য লোগো ব্যাকড্রপ ইত্যাদির জেপেগ ফর্ম্যাটের ছবি দরকার। ইতঃপূর্বে করা সংগঠন লোগোর পাশাপাশি সমাবেশ লোগো তৈরীর ব্যাপারে তাজুল ইমামের সাথে যোগাযোগের জন্য মোহাম্মদ ইরফানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়া রাকীব হাসান জানান তিনিও হয়ত ওয়েবসাইটের জন্য ব্যাকড্রপ দিতে পারবেন। মোহাম্মদ ইরফান জানান কলোরাডো সাহিত্য সভার তামজিদা খান পিউ-কেও ব্যাকড্রপ/মাস্টহেড করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ফেসবুক ইভেণ্ট পেজের জন্যও ছবি দরকার।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
আনোয়ার ইকবাল প্রেস বিজ্ঞপ্তির খসড়া করার দায়িত্ব নেন।

ভেন্যুঃ
হারুন রশিদ জানান যে উচ্চ বিদ্যালয়টি তিনি নির্ধারণ করে রেখেছেন সেটি এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি। সভার এক সপ্তাহের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা না গেলে তিনি অন্য ভেন্যু দেখবেন বলে জানান।

স্মরণিকা ও সংকলনঃ
জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত জানান একটি নয় দুটি প্রকাশনা হতে পারে সমাবেশ উপলক্ষে। এর একটি
স্মরণিকা যাতে বিজ্ঞাপন, বাণী ইত্যাদি থাকবে। অপরটি সংকলন যাতে মূলতঃ উঁচুমানের লিখা থাকবে, ইলাস্ট্রেশন সহ। ইলাস্ট্রেশনের কাজে রাকীব হাসান সহায়তা করবেন বলে জানান। ভাল মানের সংকলন তৈরী করতে হলে এখনই কাজ শুরু করা দরকার বলে মত ব্যক্ত করেন অনেকেই। সংকলন পরিষদে আশফাক স্বপনকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হলে সবাই সম্মতি দেন।

বইমেলাঃ
বইমেলার জন্য প্রথমা ও বেঙ্গলের সাথে যোগাযোগ করা হ্যেছিল বলে জানান আশফাক স্বপন। প্রথমা ও বেঙ্গল বই পাঠিয়ে দিতে পারলেও তারা সমাবেশে উপস্থিত থাকতে পারবে না বলে জানিয়েছে। বইমেলার জন্য আটলাণ্টার রিটন খান, কাজী জহিরুল ইসলাম ও হাসানাল আব্দুল্লাহকে নিয়ে একটি কার্যকরী পরিষদ গঠন করে রিটন খানকে পরিষদের কাজকর্ম সমন্বয় করার অনুরোধ জানানো হয়য়।

আমন্ত্রণঃ
সভায় উপস্থিতসহ মেইলিং গ্রুপের সবাইকে আহ্বান জানানো হয়য় আগামী সভার পূর্বেই তাদের নিজেদের এবং তাদের পরিচিতজনের উপস্থিতি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করতে। পূরবী বসু জানান তিনি একটি তালিকা তৈরী করেছেন। আনোয়ার ইকবাল জানান ভার্জিনিয়া/মেরীল্যান্ড থেকে দশজন আসবেন। ধনঞ্জয় সাহা জানান নর্থ ক্যরোলাইনা থেকে নৃত্যশিল্পীসহ দশজনের মত আসবেন। মোহাম্মদ ইরফান জানান তার পরিচিতদের মধ্যে ছ’জনের মত আসবেন। সাদ কামালী ও রাকীব হাসান কানাডার বিভিন্ন শহরে আমন্ত্রণের দায়িত্ব নেন।

অভ্যাগত আবাসনঃ
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে যারা আমেরিকা, কানাডার বাইরে থেকে আসছেন তাদের আহার-আবাসনের ব্যয়ভার আয়োজকদের পক্ষ থেকে বহনের ইচ্ছা পোষণ করেন সভায় উপস্থিত সবাই। তহবিলের অবস্থা বুঝে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসছেন, এমনকি যারা আটলাণ্টার বাইরে থেকে আসছেন তাদের সবার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও হয়তো সংগঠনের পক্ষে বহন করা সম্ভব হতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত করার জন্য তহবিল সংগ্রহে সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। হারুন রশীদকে জানানো হয় বুকিং দেয়া হোটেল কক্ষের সংঝ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।